ভারতীয় গরু নেই, তবুও কোরবানির বাজারে পর্যাপ্ত গরুর সরবরাহ
==================================
ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে বাজারে যথেষ্ট গরু পাওয়া যাচ্ছে বলে ক্রেতারা বলছেন।
ব্যবসায়ী ও গবেষকদের ধারণা বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদুল আজহার সময় ৮০ লাখের মতো গরুর দরকার হয় যার চার ভাগের একভাগ অবৈধভাবে ভারত থেকে আসতো।
কিন্তু গত দু'বছর ধরে সীমান্তের ওপার থেকে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে গরুর ব্যবসায়ী ও খামারিরা বলছেন, একারণে দেশের ভেতরেই প্রচুর খামার গড়ে উঠেছে যেখান থেকে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
পশুর প্রধান হাট ঢাকার গাবতলিতে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আনা শুরু হয়েছে। হাট জমে উঠতে কয়েকদিন সময় নেবে। তবে এখনই অনেক ক্রেতা ভিড় করছেন।
তাদের কয়েকজন বলছিলেন, দাম বেশি হলেও দেশী গরুর দিকেই তাদের প্রথম নজর। কারণ দেশি গরুর মাংসের স্বাদ ভাল।
কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে গত বছর চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত এক গ্রামের শফিকুল ইসলাম বাড়ির সাথেই ছোট একটি খামার করেছিলেন পাঁচটি দেশি গরু নিয়ে। গত বছর ঈদে তিনি ভাল দাম পেয়েছিলেন।
ঈদে দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকে, আগের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর তার খামারে গরুর সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। তার দেখাদেখি পরিবারের অন্য সদস্যরাও গরুর খামারে উৎসাহী হয়েছেন।এ বার তারা সকলে একসাথে ৩৯টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন।
চুয়াডাঙ্গার আরেকজন খামারী আবুল কালাম আজাদ চাইছেন, ভারত থেকে গরু আসা যেন বন্ধ থাকে। তাহলে তারা এবারও ভাল দাম পাবেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে খামারের সংখ্যা ও গরুর উৎপাদন অনেক বেড়েছে এবং দেশের ভেতরের সরবরাহ থেকেই চাহিদা মেটানো সম্ভব।
কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে গবেষণা করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলছিলেন, দেশের ভেতরে সরবরাহ বাড়ায় দামের উপর চাপ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে।
তিনি বলছিলেন, "প্রতি বছর ভারত থেকে বিশ লাখের মতো গরু আসতো। আর আমাদের দেশে কোরবানির ঈদে আশি লাখের মতো গরু প্রয়োজন হয়। গত বছর থেকে ভারতের গরু আসা বন্ধ হওয়ায় মাংসের দাম বেড়েছে। ফলে মানুষ উৎসাহিত হয়ে খামার করছে।দেশের ভিতরে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামের উপর চাপ কমে আসছে।
বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
ভারতীয় গরু নেই, তবুও কোরবানির বাজারে পর্যাপ্ত গরুর সরবরাহ
মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
খেলাধুলার মাঠসহ প্রতিটি খালি জায়গায় কুরবানীর পশুর হাটের সু-ব্যবস্থাপনা করা এখন সময়ের দাবি
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার বাংলাদেশ আজ যেন সেই পরাধীন ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। এদেশের মুসলমানদের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে।
এই অপচেষ্টারই একটি হচ্ছে প্রতি বছর কুরবানীর হাট যতোটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করা। অসংখ্য অগণিত খালি জায়গা, স্টেডিয়াম, খেলার মাঠ থাকা সত্বেও চাহিদা অনুপাতে কুরবানীর হাট বাড়ানো হয়না। অথচ বাংলাদেশে বিভিন্ন খেলাধুলার জন্য স্টেডিয়াম রয়েছে ১৩৭টি। ঢাকা জেলায় স্টেডিয়ামসহ খেলাধুলার বড় ধরণের মাঠ রয়েছে ৩৩টি।
এছাড়াও সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক মাঠ রয়েছে ২৫টি। এসমস্ত খালি জায়গাগুলো বছর জুড়ে হারাম খেলাধুলা হচ্ছে, হারাম বৈশাখী মেলা হচ্ছে, পূজায় ব্যবহৃত হচ্ছে কিন্তু কুরবানী উপলক্ষে দুই সপ্তাহের জন্যও ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছেনা।
সূতরাং খেলাধুলার মাঠসহ সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, খালি জায়গাগুলো প্রয়োজন হলেই হাট বসানোর সুযোগ ও সু-ব্যবস্থাপনা করা ৯৮ ভাগ মুসলমাননে ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
পাশাপাশি প্রথম আলো, চ্যানেল আই’র মতো ইসলাম বিরোধী মিডিয়া যারা কুরবানীর হাট ও কুরবানীর পশু নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: http://goo.gl/cLVQih,
http://goo.gl/PnNmEs
http://goo.gl/O2twu
.
পর্যাপ্ত কুরবানীর পশুর হাট চাই।
* মুসলমানদের সুবিধার্তে প্রত্যেক মহল্লায় মহল্লায়, গ্রামে গ্রামে কুরবানী পশুর হাট বসাতে হবে ।
* প্রত্যেক গরু জবায়ের স্পট গোলুতে সরকারী ভাবে পশু কুরবানী করে গরীবদের বিতরন করতে হবে ।
* কারন বাংলাদেশ হচ্ছে আঠান্নব্বুই % মুসলমান ওনাদের দেশ ।
* এ দেশের সরকার , পুলিশ, রেব, সেনাবাহিনী, সাধারন জনগণ সবাই মুসলমান । তাই সবাই যাতে সঠিক ভাবে ঈদ পালন করতে পারে, কুরবানি করতে পারে সে ব্যবস্হা করা সবার জন্য ফরয ।
* সবাই ঘরে ঘরে যাত ঈদের দিন গোস্ত থাকে সে ব্যবস্তা করে সরকারী ভাবে 'বাজেট' পাস করতে হবে
মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৬
কুরবানীর পশুর বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট: সম্ভাবনাময় কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাড়-গোড়, খুড়, শিং, লেজ কিংম্বা রক্ত উচ্ছিষ্ট হিসেবে যার স্থান হয় আবর্জনার স্তুপে। কিন্তু কজনই বা জানেন গবাদি পশুর এসব অঙ্গ-প্রতঙ্গের সঙ্গে কোটি কোটি ডলার চলে যাচ্ছে ডাস্টবিনে। হাজারীবাগের কিছু উদ্যোমী মানুষ ময়লার স্তুপ থেকে গবাদি পশুর এসব উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে বিদেশে রফতানী করছেন।
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশকেও রক্ষা করছেন দূষণের হাত থেকে। পশুর বর্জ্য রফতানীতে সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেলে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হতো বলে মনে করছেন এর রফতানীকারকরা।
গবাদি পশুর গোশত আর চামড়ার কদর সবার কাছেই কিন্তু এছাড়া বাকি সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ফেলে দেয়া হয় উচ্ছিষ্ট হিসেবে। অথচ এখানে যা উচ্ছিষ্ট সেগুলোই বিদেশিরা কিনে নিচ্ছে উৎকৃষ্ট হিসেবে। এই যেমন পশুর পাকস্থলি একটু ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দিলেই এর দাম হয়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ ডলার।
পবিত্র কুরবানীর পশুর হাড় দিয়ে তৈরি হয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ক্যাপসুলের কভার, নাড়ি দিয়ে অপারেশনের সুতা, রক্ত দিয়ে পাখির খাদ্য, চর্বি দিয়ে সাবান, পায়ের খুর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ক্লিপ ইত্যাদি। অর্থাৎ গরু-খাসীর সব অংশই মানুষের কোনো না কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়। পশু জবাইয়ের পর একটি মাঝারি আকারের গরু থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি হাড় ফেলে দেয়া হয়। আর এই হাড় সংগ্রহ করে প্রতিদিন ব্যবসা হয় অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নাড়িভুঁড়ি বিক্রি হয় আরো অন্ততঃ ১২ লাখ টাকার। ব্যবসায়ীরা জানান, হাড়গোড় দিয়ে ওষুধ, বোতাম আর ঘর সাজানোর নানা উপকরণ তৈরি হয়। এছাড়া নানা দেশেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় নাড়িভুঁড়ি।
আন্তর্জাতিক বাজারে পিত্ত থলিরও রয়েছে বিশাল চাহিদা। এদিয়ে তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধ। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকেও আসতে পারে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এসব চলে যাচ্ছে ডাস্টবিনে।
এর পাশাপাশি হাড়, খুড়, দাঁত, শিং আর রক্ত দিয়ে তৈরি হয় ক্যাপসুলের কভার, জেলোটিন, ক্যামেরার ফিল্ম, সিরিস কাগজ আর পশুপাখির খাবার।
এবার সারা দেশে ১.৫ কোটি পশু কুরবানি হলে প্রতিটি গড়ে ১০ ডলার হিসেবে পাকস্থলি থেকেই অর্জিত হতে পারে প্রায় ১৫ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতি এ ব্যাপারে গবেষণা করে বলেছে, কুরবানি ঈদে শুধু ঢাকা শহরেই উৎপাদিত হয় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য। কুরবানির বর্জ্য হলো হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, রক্ত-চর্বি, পিত্ত এবং চামড়ার ওয়েস্টেজ অংশ। এসব উচ্ছিষ্ট শতভাগ রফতানিযোগ্য। গরুর হাড় দিয়ে তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ক্যাপসুলের কভার। নাড়ি দিয়ে তৈরি হয় অপারেশনের সুতা। চর্বি দিয়ে সাবান। এভাবেই পশুবর্জ্য মানুষের কোনো না কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়। এগুলো রফতানি করলে শতকোটি টাকা আয় করা সম্ভব শুধু কুরবানি ঈদকেন্দ্রিক।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বলছে, কুরবানির বর্জ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করা যাবে। দেশে মাটির আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া উর্বরতা বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ বলছে, ছাগল, ভেড়া, মহিষের উচ্ছিষ্টাংশ ব্যবহার করে দেশের পশু ও মৎস্য খাদ্যের প্রোটিন চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। খামারিরা প্রতি কেজি প্রোটিন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় আমদানি করছে। অথচ কুরবানিসহ পশুর উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য ব্যবহার করে প্রোটিন উৎপাদন করা সম্ভব। এতে প্রতি কেজি প্রোটিন উৎপাদনে খরচ হবে ৩ থেকে ৪ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঠিকমত সংরক্ষণ এবং জনসচেতনা তৈরি করতে পারলে চামড়া শিল্পের মত শুধু পশুবর্জ্য দিয়েই আরেকটি শিল্প দাঁড়িয়ে যেতে পারে।